জব্বরুদ্দীনের বয়স ৭২ বছর। আসলেও তাকে “বাহাত্তুরে” পেয়েছে। বয়সকালে অস্বাভাবিক আচরণ করলে গ্রামের মানুষ তাকে “বাহাত্তুরে পাওয়া” বলে। বাংলার গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসা শাস্ত্রের জ্ঞান আসলেই প্রশংসনীয়। কারণ আমরা যাকে বার্ধক্যজনিত বুদ্ধিভ্রংশতা বা ডিমেন্সিয়া বলি সেটা আসলে বাহাত্তুরে পাওয়াই বটে। জিজ্ঞেস করলাম, “আপনাকে এ পরামর্শ কে দিলো”। তার জবাবে বেশ দীর্ঘ এক কাহিনী শুনলাম।
জব্বরুদ্দীনের স্ত্রী পরলোকগমন করেছেন অনেকদিন। কিছুদিন যাবৎ খুব একা বোধ করছিলেন। সেটাও সহনীয়। কিন্তু সম্প্রতি নারী সহবাসের ইচ্ছে তার অদম্য হয়ে উঠেছিলো। তার ভাষায় “বয়সকালেও কখনও এত উতলা হইনি”। ওদিকে প্রস্রাবের কিছু সমস্যা ছিল। রাতে অন্তত আট-দশ বার উঠতে হয়, প্রস্রাব শেষ হয়েও শেষ হয় না। তাই তিনি গ্রামের স্থানীয় এক গণ্যমান্য হাতুড়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। ডাক্তার সাহেবের পরামর্শ তার মনে ধরল। আর মনে ধরবেই বা না কেন। হাতুড়ে ডাক্তার সাহেব তো আর আজকের ডাক্তার না। তার পিতা-প্রপিতামহ সবাই খুব নামকরা হাতুড়ে ডাক্তার ছিল। তার রোগ ধরতে বিলম্ব হয় না। আর চিকিৎসা তো ধন্বন্তরি।
অতএব ডাক্তারের পরামর্শ শুনে জব্বরুদ্দীন আর দেরী করেননি। সপ্তাহ না ঘুরতেই হুরমতীকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন। বাপ-মা মরা মেয়ে। কেউ দেখা শোনার নাই। নানাজনের দান খয়রাতের ওপর চলে। তাই ভাবলেন মেয়েটারও একটা গতি হয়, আবার তার অসুখেরও চিকিৎসা হয়।
গ্রামের লোকজন ভরপেট যিয়াফত খেয়ে জব্বরুদ্দীন আর হুরমতীর সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য দোয়া করতে করতে ঘরে ফিরল। দুষ্টজনেরা হয়তো একটু-আধটু রসিকতা করেছিল। কিন্তু সবার কথায় কান দিলে কি আর ঘর সংসার চলে?
পরের তিন মাস জব্বরুদ্দীনের জীবন ধারা পালটে গেল। নতুন বউয়ের যত্নআত্তিতে তার ভুঁড়ি যতই স্ফীত হয়ে উঠতে শুরু করলো, রাতে হুরমতীর মেজাজ ততই সপ্তমে উঠতে শুরু করলো। হুরমতীর আর দোষ কি? বয়স তো তার মোটে একুশ। জব্বরুদ্দীন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না তিন মাস আগের মনের সে ইচ্ছেগুলো কোথায় উবে গেল?
হঠাৎ দিন-দুয়েক পরে তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেল। সে এক যন্ত্রণার সমস্যা। শহরে বড় হাসপাতালে গিয়ে তার অপারেশন করাতে হল। তার প্রোস্টেট অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশনের ডাক্তার তাকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে স্ত্রী হয়তো তার ওপর নারাজ থাকবে। কিন্তু ব্যাপারটা যে এত গুরুতর তা জব্বরুদ্দীন আগে বুঝতে পারেন নি। হাতুড়ে ডাক্তার সাহেবও তাকে খুলে বলেননি।
পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি বয়স হলে বেড়ে যায়। তখন আরও অনেক উপসর্গের সঙ্গে তাদের যৌন কামনাও কখনও কখনও বেড়ে যায়। অনেকে এ সময় নতুন করে বিয়ে করে কিংবা অন্য পথে চলে। কিন্তু কিছুদিন পরে আবার যৌন ক্ষমতা কমে যায়। আর প্রোস্টেট অপারেশনের পরে জটিলতার কারণেও এটা কমে যেতে পারে। জব্বরুদ্দীনের সেটাই হয়েছে। কিন্তু জব্বরুদ্দীনকে কে বোঝাবে? আর হুরমতীকেই কে বোঝাবে?
হাতুড়ে ডাক্তার সাহেবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি এবার তার হাতে ভায়াগ্রা ধরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু জব্বরুদ্দীন খেতে সাহস পাননি। একবার তার পরামর্শে বিয়ে করে মুসিবতে আছেন। আবার এটা খেয়ে কি হয় না হয় ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না। ওদিকে হুরমতী হুমকি দিয়েছে কোন এক তালতো ভাই নাকি তাকে নিয়ে যেতে চায়।
জব্বরুদ্দীন এখন কি করবেন?



